শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৫:২৯ পিএম, ২০২২-০৮-২৭
বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ নামে পরিচিত হালদা নদী নিয়ে বহুল প্রচারিত একটি ভূল মতবাদ রয়েছে। মতবাদটি হলোঃ"হালদা নদী দক্ষিণ এশিয়া/ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র"। যার অর্থ হলো এশিয়া বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো নদীতে মাছ/ মেজর কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন হয়না। সম্পুর্ণ ভুল একটি তথ্য যার বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই বললেন পিএইচডি ডিগ্রিধারী হালদা গবেষক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।আমার প্রশ্ন হলো এই মতাবাদ বা গবেষণাটি কে এবং কখন করেছে? যার কোথাও কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। সুতরাং এটি কারো মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছুনা। ভুল তথ্য পরবর্তী প্রজন্ম তথা একটা জাতির জন্য বিরাট অভিশাপ। চলুন এই অভিশাপ থেকে নিজেদের মুক্তি দিই।
প্রমাণ দেখুন-- বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে এবং পার্শ্ববর্তীদেশ ভারত, পাকিস্তান ও মায়ানমারের বিভিন্ন নদীতে মেজর কার্প জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউস) জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন হয়।প্রজনন কেন্দ্র, প্রজনন মৌসুম ও ভৌগলিক বিস্তৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের মেজর কার্পের চারটা স্টক আছে, ব্রহ্মপুত্র -যমুনা স্টক, পদ্মা উজান স্টক, মেঘনা উজান স্টক ও হালদা স্টক। এছাড়াও কর্ণফুলি নদীর উজানে বরকলসহ আরো তিনটি কর্ণফুলির শাখানদী (মাঈনি, রাইংকন, ও চেঙ্গী) থেকেও রুই-কাতলা জাতিয় মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয় (আজাদী, ১৯৮৫; এফএও ও ইউএনডিপি প্রজেক্ট।
এছাড়াও সম্প্রতি ২০১৫ সালে রয় এর গবেষণায় দেখা যায় সিলেটের সুরমা নদীর হেতিমগঞ্জ পয়েন্ট এবং কুশিয়ারা নদীর ভাদেশ্বর পয়েন্ট থেকে ৩ হাজার ১০৫ গ্রাম কার্প জাতীয় মাছের রেণু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত রেণুর দৈর্ঘ্য ছিল (১-১.৫) সে.মি. এবং বয়স ছিল (২-৩) দিন। তারপর প্রজাতি সনাক্তকরণের জন্য সংগৃহীত নমুনাগুলি ১৫ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা কৌশলসহ জন্য লালন-পালন করা হয়েছিল। ১৫ দিন পর, মাছের রেনুর আকার প্রায় ২.৫-৩.০ সেমি এবং সহজেই প্রজাতি চিহ্নিত করা হয়। কার্প মাছ রেণু দুটি ধাপে ধরা হয়েছিল। ১ম ধাপের সময়কাল ছিল ৩০মে থেকে ০৮ জুন ২০১৫ যা ছিল অমাবস্যা ও ২য় ধাপ ১৯ থেকে ২১ জুন ২০১৫ যেটি পূর্ণিমা সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। ১ম ধাপে, সবচেয়ে বেশি পরিমাণে (২৯৮৫ গ্রাম) কার্প মাছের রেনু সংগ্রহ করা হয়েছিল যেখানে ২য় ধাপে, অল্প পরিমাণে (১২০ গ্রাম) কার্প মাছের রেনু সংগ্রহ করা হয়েছিল। কার্প মাছের রেনুর প্রধান অংশ ছিল কালিবাউস, রুই, মৃগেল এবং কার্প রেনুর অন্যান্য অংশ ছিল গোনিয়া,বাটা, এবং ভাঙ্গন মাছ। সংগৃহীত নমুনায় শতকরা পরিমাণে কালিবাউস ৩৫%, রুই ৩০%, মৃগেল ২৫%, বাটা ৬%, গোনিয়া ২%, এবং বগা ২% পাওয়া যায়। এছাড়াও পাশের দেশ ভারত, মায়ানমার ও পাকিস্তানের বিভিন্ন নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ (মেজর কার্প) জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন হয়।
এছাড়া ও সম্প্রতি (২০১১) শ্রীলন্কার Udawalawe reservoir থেকে রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও ভারতে (গঙ্গা, যমুনা, বেতওয়া, গোমতি, রামাগঙ্গা, রাপতি, গহাগড়া নদী,বম্মপুত নদীর- দারাঙ্গ, খানামুখ, বামানদি নদী, নারমাদা নদী সিস্টেম, টাপতি, মাহানাদী, ব্রামানি, দায়া, সুবারনরেখা নদী, গোদাভারী, কৃষ্ণ, কুওভেরী নদী থেকেও কার্পজাতীয় মাছের স্পন সংগ্রহ করা হয়।
পাকিস্তান (ইন্দুস) ও মায়ানমারের (পেগু, ইরাবতি, মাইন্টজি, পানলিঙ্ ও সিতাং নদী) অনেক নদীতে মেজর কার্পের প্রজনন হয়। অন্য নদীর সাথে হালদার পার্থক্য হলো অন্য নদী থেকে কার্পজাতীয় মাছের ৪-৫ দিন বয়সের রেণু সংগ্রহ করা হয় কিন্তু নিষিক্ত বা অনিষিক্ত ডিম্বাণু / ডিম সংগ্রহ করা হয়না । কিন্ত হালদা নদী থেকে প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে মেজর কার্পজাতীয় মাছের ডিম বা ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। তাই হালদা নদীকে দক্ষিণ এশিয়ার বা এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বলা যাবেনা। হালদা নদী বাংলাদেশের স্বাদুপানির মেজর কার্পজাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের কারণে (অবৈধভাবে নিষিদ্ধ জাল, বঁড়শি ও রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করে মাছ নিধন, এবং বিভিন্ন শাখাখালের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হালদায় বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য কঠিন ও তরল আকারে ফেলা হচ্ছে, যা হালদা নদীর স্বাস্হের জন্য মারাত্মক হুমকি যার ফলে হালদা নদীতে সস্প্রতি ডিম সংগ্রহের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমেছে এবং সম্প্রতি হালদা নদী থেকে তিনটি মৃত ব্রুড কাতলা মাছ ও ডলফিন উদ্বার করা হয়েছিল। যা হালদা বাস্তুতন্ত্রের অশনিসংকেত নির্দেশ করে। এই প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রের প্রতিবেশ ও পরিবেশ ক্রমাগত জলজ জীবনের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে।হালদা নদী আমাদের জাতীয় সম্পদ।
এই প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রের বাস্তুতন্ত্রকে স্বাভাবিক ও চিরচেনারুপে ফিরিয়ে আনতে হালদা নদী সম্পর্কিত সবাইকে আরো বেশি সচেতন ও মনোযোগী হতে হবে। হালদা নদীর সুষ্ঠ ও সঠিক ব্যবস্হাপনার জন্যে একাডেমিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষঙ্গের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করে গবেষণা কার্ষক্রম পরিচালিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে লক্ষ্য হালদা নদীকে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ষোষণা করেছে তার বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে।
ড. মো. শফিকুল ইসলাম
হালদা নদীর উপর পিএইচডি ও এম.এস.(থিসিস) ডিগ্রীধারী হালদা গবেষক ও পরিবেশবিদ
আবদুল্লাহ মজুমদার : : রাতের নীরবতায় একটি মুঠোফোনের পর্দায় ভেসে উঠেছিল বাবার কাছে পাঠানো মেয়ের শেষ আকুতি। নিজের অবস্থান...বিস্তারিত
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি - সবাই হঠাৎ সরকারপন্থী জাতীয়তাবাদà...বিস্তারিত
মামুনুর রশিদ সেলিম : চট্টগ্রামে উদ্যোক্তাদের নিয়ে নেক্সট লিডার্সের ‘ফাউন্ডার্স গেট-টুগেদার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং সে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফেসবুকের দেয়ালে হঠাৎ একটি ছবি ভেসে ওঠে। পরিচিত কোনো মুখ—কখনো মঞ্চে, কখনো সভায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠাà¦...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ক্ষমতার আলো যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি তার ছায়াও দীর্ঘস্থায়ী হয়। ইতিহাসের প্রতিটি রাজনৈতিক পা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের জীবন কোনো শিরোনামে ধরা পড়ে না, কোনো আলোচনায় দীর্ঘ হয় না; তবুও তাঁদের নীরব উপà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited